বৃহঃস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

তেলের কৃত্রিম সংকট, প্রশাসনের তদন্তে তৎপরতা

স্টাফ রিপোটার | প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৫

ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, পরিবহনচালক ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পাম্পগুলোর বেশিরভাগই সাময়িকভাবে বন্ধ থাকছে, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণ তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই তেল না পেয়ে সমস্যায় পড়ছেন।

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিজেন্দ্রলাল জানান, “পাম্প বন্ধ থাকায় আমাকে মোটরসাইকেল ঠেলে টেঙ্গনমারী বাজারে গিয়ে খোলাবাজার থেকে ২ লিটার পেট্রোল ৫০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।”

ডিজেল সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ মৌসুমে জমিতে পানি তুলতে না পারায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেলের দাম চড়া করে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাম্পে তেল না থাকলেও রাস্তার পাশে খোলা দোকানগুলোতে বেশি দামে তেল সহজে পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় চালকরা জানান, “পাম্পে তেল নেই বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে তেল কিনতে হচ্ছে।”

জলঢাকা উপজেলার পাম্প মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কিসামত বটতলা ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, “ডিপো থেকে তেল না আসায় সাত দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে, এবং খোলাবাজারে অবৈধ বিক্রি রোধে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম চলছে।”



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top