হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ: ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:৩৭
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালিতে স্বস্তির খবর এসেছে বাংলাদেশের জন্য। ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ চেইনে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক বা দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যাতে তারা নিরাপদে প্রণালি পার হতে পারে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা বিশেষ কারণে অনুমতি দেই, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করছে।”
আরাগচি আরও জানান, ইতিমধ্যেই চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতসহ কয়েকটি দেশ জাহাজ পাঠিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতেও, যুদ্ধের পরেও এটি চলবে। তবে যেসব দেশকে আমরা প্রতিপক্ষ মনে করি বা চলমান সংঘাতে জড়িত, তাদের জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যেতে পারবে না।”
ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ফলে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ কার্যত আটকে গেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, বিমান সংস্থা থেকে সুপারমার্কেট—সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে, চাহিদা কমেছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া এই যুদ্ধে তেহরান পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। সাধারণত প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে প্রায় একশ বিশটি জাহাজ যাতায়াত করে। কিন্তু ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মাত্র একশ পঞ্চাশের বেশি জাহাজ পার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাস বহনকারী, বেশিরভাগ পূর্ব দিকে গেছে। আর গতকাল বুধবার মাত্র দুটি জাহাজ পশ্চিমমুখে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।