শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

বাসডুবিতে নিহত নাসিমার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সও দুর্ঘটনার শিকার

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৮

ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে টানা তিন দিন জীবিত উদ্ধার হয়ে একসময় আলোচনায় আসেন নাসিমা বেগম। ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকেও বেঁচে ফেরার সেই ঘটনা অনেকের কাছে ছিল অলৌকিক। কিন্তু সময়ের নির্মম পরিহাসে এক যুগ পর আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনসংগ্রাম।

গত বুধবার বিকেলে ঈদ শেষে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন নাসিমা। তার সঙ্গে ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান। তারা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ হয়ে যাত্রীবাহী বাসে ঢাকায় ফিরছিলেন।

বিকেল পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই পানির নিচে তলিয়ে যায় বাসটি। যাত্রীদের আর্তচিৎকারে চারপাশে সৃষ্টি হয় আতঙ্কজনক পরিস্থিতি, যা নিমিষেই রূপ নেয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন। তাদের চেষ্টায় আব্দুল আজিজ আজাদকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নাসিমা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা খাতুন এবং শিশু আব্দুর রহমানকে আর বাঁচানো যায়নি। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার পর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে এগারোটার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তবে মর্মান্তিকতার এখানেই শেষ হয়নি। স্বজনরা যখন মরদেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কুষ্টিয়া এলাকায় সেই অ্যাম্বুলেন্সটিও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। যদিও এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তিনটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত নাসিমা বেগম ওই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্রামে অবস্থান করেন নাসিমা। স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে আবার ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি সাভারে ভাগনির বাসায় ওঠেন। প্রায় এক মাস চেষ্টা করেও কোনো কাজ না পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে ফরিদপুরে ভাগনির শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখান থেকে ঈদ শেষে একসঙ্গে ঢাকায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ জানান, পুলিশ প্রশাসন শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top