রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

লালমনিরহাটে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ ও লুটপাটের অভিযোগ, সুষ্ঠু বিচারের দাবি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৯

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ, ভাঙচুর ও নির্মাণসামগ্রী লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার।

শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৬ মার্চ বিকেলে কোনো ধরনের আইনি নোটিশ বা পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনিতা দাস স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শুকুরউদ্দীনসহ ৫০-৬০ জন উপস্থিত ছিলেন।

তার দাবি, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সেখানে থাকা স্থাপনা, সাইনবোর্ড ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার সন্তানদের জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নির্মাণাধীন একটি মার্কেটের প্রায় ১০ হাজার ইট, ১০০ বস্তা সিমেন্ট ও প্রায় ২ লাখ টাকার রড লুটপাট করা হয়েছে। লুট হওয়া কিছু মালামাল এখনো ইউনিয়ন পরিষদে রাখা আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জমির মালিকানা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি কোনো খাস বা কলোনির জমি নয়; এটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি। ১৯৪৩ সালে তার পিতা প্রায় সাড়ে ১৭ একর জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে সরকার ১৫ একর অধিগ্রহণ করলে অবশিষ্ট জমি ১৯৬২ সালে তার পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। সেখান থেকে কিছু অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতেই তিনি মার্কেট নির্মাণ করছিলেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, জমির সকল বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অভিযান চালান, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস বলেন, জমিটি আগে তাদের হলেও পরবর্তীতে দান করা হয়েছে এবং বর্তমানে স্কুল ও হাটের নামে রেকর্ড রয়েছে। বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী ভুক্তভোগীর কোনো মালিকানা নেই।

তিনি আরও বলেন, দাবি থাকলে আদালতে যেতে বলা হয়েছে। সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর আগেও একই কারণে উচ্ছেদ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top