লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে ভাসতে ভাসতে সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যু
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের অন্তত ১২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক যুবকের বর্ণনায় আরও ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্যও সামনে এসেছে।
জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন। কয়েক দিন ধরে তাদের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। পরে বেঁচে ফেরা এক যুবকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ভিডিওতে ওই যুবক জানান, লিবিয়া থেকে ৪৩ জন যাত্রী একটি বড় নৌকার কথা বলে ছোট একটি রাবারের বোটে তোলা হয়। এতে ৫ জন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। সাগরে পথ হারিয়ে ৫-৬ দিন ভেসে থাকার পর খাবার ও পানির অভাবে একে একে ১৮ জন মারা যান। লাশগুলো দুই দিন বোটে রাখার পর পচন ধরলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের পরিবার জানায়, দালালের মাধ্যমে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চুক্তির অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সাগরপথে ইউরোপে পাঠানো হচ্ছিল এসব যুবককে। অনেক পরিবার এখনো নিশ্চিত নয় তাদের স্বজন জীবিত না মৃত।
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী একটি নৌযান গ্রিসের উপকূলে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ডুবে যায়। এতে অন্তত ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
গ্রিস কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপের কাছে অভিযান চালিয়ে এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্যের ভিত্তিতে গ্রিস কর্তৃপক্ষ দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
এদিকে নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের লাশ পর্যন্ত দেখতে না পাওয়ার বেদনায় ভেঙে পড়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।