মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

গ্রীষ্মেই আঘাত হানতে পারে ১৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ‘এল নিনো’!

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৭

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরী প্রতীকী ছবি। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে আবারও দেখা দিতে পারে এল নিনো পরিস্থিতি, যা এবার অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি ‘সুপার এল নিনো’তে পরিণত হলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন রেকর্ড স্পর্শ করতে পারে। পাশাপাশি ঝড়, খরা ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এল নিনো হলো এমন একটি আবহাওয়াগত ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত শূন্য দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়। এই পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে। সাধারণত উত্তর গোলার্ধের বসন্তে এর সূচনা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর এটি ফিরে আসে।

আবহাওয়া পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যে জানা গেছে, চলতি গ্রীষ্মে এল নিনো গঠনের সম্ভাবনা প্রায় ৬২ শতাংশ। যখন সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, তখন সেটিকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে ধরা হয়। গত শতকের মাঝামাঝি সময়ের পর এমন ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সম্ভাব্য এল নিনো অতীতের তুলনায় আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস মডেল একই ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ুতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়, তবুও প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাই আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল, ভারত এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু এলাকায় তীব্র গরম ও খরার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাংশ, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অঞ্চল এবং দক্ষিণ-মধ্য এশিয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ খরা দেখা দেয়, পানির তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং সমুদ্র অঞ্চলে ঝড়ের প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ুর এমন পরিবর্তনে খরা পুরোপুরি দূর হয় না; বরং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এল নিনো ঘটনাগুলোর একটি ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সংস্থাটি মনে করছে, এ ধরনের পূর্বাভাস কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও পানি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top