শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

বাজারে নকল ও মানহীন কনডম জনস্বাস্থ্য হুমকিতে

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯:৪৩

ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর তেজতুরী বাজারের একটি ওষুধের দোকান। বস্তিসংলগ্ন এ জায়গায় সন্ধ্যার দিকে ক্রেতাদের ভিড়ে এক তরুণ লাজুক ভঙ্গিতে দোকানির দিকে ঝুঁকে কনডম চান। দোকানি কোনো প্রশ্ন না করেই কাউন্টারের নিচ থেকে একটি প্যাকেট বের করে দেন। মোড়কে লেখা একটি অপরিচিত ব্র্যান্ডের নাম, কিন্তু ভেতরের কনডমে ছাপা রয়েছে ভিন্ন নাম। প্যাকেটে তিনটি কনডম আছে, দাম ১০ টাকা। তরুণটি না জেনেই কিনে নেন। তিনি জানেন না, এ কনডমই হয়তো তাঁর ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
 
দোকানি যে কনডমটি বেচলেন, এর গায়ের নাম ‘ম্যান লাভ’। কিন্তু প্যাকেটের ভেতরে যে কনডম পাওয়া গেল, তার মোড়কে নাম লেখা ‘এক্সপ্রেশন’। দোকানিকে বিষয়টি দেখানোর পর তিনি বললেন, ‘এসব দেহি না ভাই। কুন নামে আছে হেইটা কে দেহে। জিনিস তো আছেই।’
 
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব নকল ও মানহীন কনডমের বিস্তার বেশি প্রত্যন্ত অঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায়। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কক্সবাজারের সীমান্তঘেঁষা এলাকা এসব পণ্য সহজলভ্য।
 
দোকানি জানান, স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী কিছুদিন পরপর নানা ব্র্যান্ডের কনডম দিয়ে যায়। বাজারে প্রচলিত ভালো কোম্পানির চেয়ে এগুলোর দাম অনেক কম। তাই এগুলোর বিক্রিও ভালো। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এসবের চাহিদা প্রবল।দেশের বাজার এখন এ রকম মানহীন ও নকল কনডমে ভরে গেছে।
 
জন্মনিয়ন্ত্রণ ও যৌনরোগ থেকে নিরাপদ থাকতেই মূলত কনডমের ব্যবহার হয়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন এসব কনডমে ‘মাইক্রোলিকেজ’ বা অতিক্ষুদ্র ছিদ্র থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। আর তা যদি থাকে তবে কনডম ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। এ ধরনের কনডম ব্যবহারের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ যেমন হতে পারে, তেমনি যৌনবাহিত রোগ হওয়ারও আশঙ্কা আছে।
 
যৌনসংক্রামিত রোগ, যেমন সিফিলিস, গনোরিয়া, ক্ল্যামাইডিয়া, জেনিটাল হার্পিস, জেনিটাল ওয়ার্টস (এইচপিভি), হেপাটাইটিস বি ও সি ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পেছনে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণ আছে। আর সে ক্ষেত্রে এ ধরনের কনডমের ব্যবহারও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top