পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত, ক্ষুব্ধ ভিসাপ্রার্থীরা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫৩
কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভিসাপ্রার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরে একাধিক ভিসাপ্রার্থীকে এ বিষয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমি প্রায় এক বছর ধরে ইন্টারভিউর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এই কারণে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করিনি। চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় এসে হোটেলে উঠেছিলাম। বুধবারই ছিল আমার নির্ধারিত ইন্টারভিউর দিন।”
তিনি আরও জানান, দূতাবাসে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ইন্টারভিউ সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আগে থেকেই প্রিন্ট করা একটি কাগজ ধরিয়ে জানানো হয়—তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ভিসাপ্রার্থীদের দাবি, একই ধরনের আগে থেকে প্রিন্ট করা কাগজ সব আবেদনকারীকে দেওয়া হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, যদি ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হতো, তাহলে সময় ও অর্থ ব্যয় করে লোক দেখানো ইন্টারভিউ দিতে আসতে হতো না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফক্স নিউজ জানায়, এসব দেশের নাগরিকরা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফক্স নিউজের হাতে আসা পররাষ্ট্র দপ্তরের এক অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, ভিসা যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য ভিসা দেওয়া হবে না। এ অবস্থায় কনসুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার রয়েছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান, রাশিয়া, ব্রাজিল, ইরান, ইরাক, মিসর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, ইয়েমেনসহ আরও বহু দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের আওতায় কঠোর নতুন স্ক্রিনিং ব্যবস্থা কার্যকরের নির্দেশ দেয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাদের ভিসা না দিতে কনসুলার কর্মকর্তারা বয়স, স্বাস্থ্য, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে কিনা—এসব বিষয় বিবেচনা করবেন।
এছাড়া বয়স্ক বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী, অতীতে সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে থাকার ইতিহাস রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রে এসে যারা পাবলিক চার্জে পরিণত হতে পারেন এবং আমেরিকান জনগণের উদারতার অপব্যবহার করতে পারেন—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণার ক্ষমতা আমরা ব্যবহার করব।”
তিনি জানান, কল্যাণভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই ৭৫টি দেশের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধান থাকলেও এর প্রয়োগ প্রশাসনভেদে ভিন্ন ছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তে ব্যতিক্রমের সুযোগ থাকবে খুবই সীমিত এবং কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যখন আবেদনকারী পাবলিক চার্জ সংক্রান্ত সব শর্ত পূরণ করতে পারবেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।