শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

লোকসভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে আলোচনা, ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জবাব

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে সেগুলোর লিখিত জবাব পাঠ করে শোনানো হয়।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এসব প্রশ্নের উত্তর দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। বিষয়টি জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

সংসদে তাকে প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক বর্তমানে স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে কিনা এবং পাকিস্তান এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে কিনা। জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনও অত্যন্ত দৃঢ়। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বৈঠক ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কিনা— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য যেকোনো দেশের প্রভাব থেকে স্বাধীন।

এছাড়া বাংলাদেশের যেসব স্থানে ভারতের জাতীয় স্বার্থ জড়িত রয়েছে, সেসব বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংখ্যালঘু ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রসঙ্গে ভারত সরকার ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকসহ সব প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে বিষয়টি উত্থাপন করে আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিয়ে আলোচনা করেন।

অন্য এক প্রশ্নে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান-চীন’ সম্ভাব্য জোটের বিষয়টি ভারত সরকার বিবেচনায় নিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সরকার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘সবার আগে প্রতিবেশী’ নীতির আওতায় ভারত সরকার নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ, উন্নয়ন কার্যক্রম, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে যাচ্ছে।

পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top