রাখাইনে সংঘাত: আটকে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, সংসদে জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:০৫
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলমান থাকায় প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি।
তবে সরকার এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আইনি লড়াই জোরদার করেছে বলেও জানান তিনি।
সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৬ জনের তথ্য যাচাইয়ের জন্য মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে যাচাই সম্পন্ন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের।
এছাড়া ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে মিয়ানমার তাদের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আরও প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যায়।
তিনি বলেন, আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সরকারও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে আয়োজিত এক সংলাপে কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ সংস্থা ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলাটি বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এ মামলার ব্যয় নির্বাহে গাম্বিয়াকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।
তিনি আরও জানান, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ওআইসির বৈঠকেও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার আশা করা হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।