গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকার:প্রেস সচিব
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫৩
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস ধরে দেশের গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করছে। এরপরও মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি বারবার সামনে আসছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের আহত হন। এ সময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
শফিকুল আলম বলেন, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি সাধারণভাবে সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার অর্থ বহন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
তার অভিযোগ, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ অনেক শীর্ষ গণমাধ্যম যাচাই ছাড়াই ওই ফেসবুক পোস্টকে সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রেস সচিব জানান, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্টভাবে জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বর্তমানে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।
সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তার ভাষ্য, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক গণমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, বরং সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
এর আগে মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পর সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, সে সময়ও ভুল ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। তখন একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা স্কুলের ভেতরে কয়েকজন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাকে নয় ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখে এবং আরেকটি দল সচিবালয়ে ভাঙচুর চালায়।
তার মতে, “গতকালের বেপরোয়া ক্লিকবেইট সাংবাদিকতা প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির জন্ম দিতে যাচ্ছিল।”
সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।