বেতন-ভাতাসহ যেসব সুযোগ–সুবিধা পান সংসদ সদস্যরা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৩২
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৯৭ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা হয় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। সময়ের সঙ্গে এই আইনে একাধিকবার সংশোধন আনা হয়েছে; সর্বশেষ সংশোধন হয় ২০১৬ সালে।
মাসিক বেতন ও ভাতা-
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য মাসিক মূল বেতন হিসেবে পান ৫৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি—
নির্বাচনি এলাকা ভাতা: ১২ হাজার ৫০০ টাকা
আপ্যায়ন ভাতা: ৫ হাজার টাকা
পরিবহন ভাতা: ৭০ হাজার টাকা (জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও চালকের বেতনসহ)
নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনা ভাতা: ১৫ হাজার টাকা
ব্যক্তিগত ব্যয়ের জন্য আরও রয়েছে-
লন্ড্রি ভাতা: ১ হাজার ৫০০ টাকা
বিবিধ ব্যয় ভাতা: ৬ হাজার টাকা (দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের জন্য)
শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ-
সংসদ সদস্যদের অন্যতম বড় সুবিধা হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ। দায়িত্বকালীন সময়ে সরকার নির্ধারিত শর্তে একজন এমপি একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর একই সুবিধায় নতুন গাড়ি আনার সুযোগও রয়েছে।
ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা-
সংসদের অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য এমপিরা আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ হারে ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধা রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়া হয়। দায়িত্বস্থলে অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রযোজ্য।
চিকিৎসা, বীমা ও অনুদান-
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় প্রত্যেক সংসদ সদস্যের জন্য ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর হয়।
এ ছাড়া বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী ব্যয় করতে হয়।
টেলিযোগাযোগ ও কর সুবিধা-
প্রত্যেক সংসদ সদস্যের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এ খাতে মাসিক ৭ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বরাদ্দ রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর প্রযোজ্য নয়।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।