আমাকে বিদেশ সফরে যেতে বাধা দিয়েছে ইউনূস সরকার: রাষ্ট্রপতির
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৭
বিদেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ এলেও তখনকার ইউনূস সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তাঁর বিদেশ সফরের পথে বাধা সৃষ্টি করেন।
গত শুক্রবার কালের কণ্ঠ পত্রিকায় দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি জানান, অন্তত দুটি দেশের আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে অবগত ছিলেন, যার একটি ছিল কসোভো। গত ডিসেম্বরে কসোভোতে একটি অ্যাসেম্বলিতে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে একটি ‘কি-নোট পেপার’ উপস্থাপনের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সে সফরে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া কাতারের আমির তাঁকে একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। ওই সামিটে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল এবং সেখানে রাষ্ট্রপতি ছাড়া অন্য কারও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। তবে সে ক্ষেত্রেও ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যার খসড়া তারাই তৈরি করে দেয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি ওই সামিটে অংশ নিতে পারছেন না এবং দুঃখ প্রকাশ করছেন। ওই খসড়া চিঠিতে সই করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয় এবং একই সঙ্গে আমন্ত্রণপত্রের কপিও পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, ওই চিঠি তৈরির আগে তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি। চিঠিটি হাতে পাওয়ার পরই তিনি জানতে পারেন, কাতার থেকে রাষ্ট্রপতির জন্য এমন একটি আমন্ত্রণ এসেছিল এবং সেই আমন্ত্রণের জবাব হিসেবেই আগেভাগে ওই চিঠি প্রস্তুত করা হয়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংবিধানের আলোকে একজন রাষ্ট্রপতি কি আদৌ এমনভাবে ‘রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে’ এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে তিনি একটি আন্তর্জাতিক সামিটে অংশ নিতে পারবেন না?
পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি ওই চিঠিতে একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন যুক্ত করে পাল্টা চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। ওই চিঠিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আচরণকে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার জন্য পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সতর্ক করা হয়। তবে সেই চিঠির কোনো জবাব তিনি পাননি বলে দাবি করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষায়, এরপর আর কোনো দেশ থেকে তাঁর জন্য আমন্ত্রণ এসেছিল কি না, সে বিষয়ে জানার সুযোগও তাঁর হয়নি।
রাষ্ট্রপতি মনে করেন, তাঁকে বিদেশ সফরে যেতে না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে তাঁর নাম ও পরিচয় আড়াল করে রাখা। তাঁর অভিযোগ, ওই সরকার চায়নি কোথাও রাষ্ট্রপতির নাম উচ্চারিত হোক বা জনগণ তাঁকে চিনুক। এই মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুধু বিদেশ সফরেই নয়, দেশের ভেতরেও তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ হলেও সেটিও আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।