আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাবেন ৩৭৫৬৭ জন
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০
স্বল্প আয়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পরিবার কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ভাতা পাবেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি নগর করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘পরিবার কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনসহ বিভিন্ন কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক পরিবার কার্ড পাবে। এ কার্ডে বিশেষ চিপ ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থাকবে। একটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সদস্য সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী ভাতা মোবাইল অর্থসেবা বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জমা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময়ই এসব হিসাবের তথ্য নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ব্যবস্থা তৈরি ও কার্ড প্রস্তুতসহ অন্যান্য কাজে ব্যয় করা হবে।
এদিকে পরিবার কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রভাব নেই বলে দাবি করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ঘরে অর্থনৈতিক সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে দেশের অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে, কিন্তু বাস্তবে তা বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় বড় সামাজিক কর্মসূচি নেওয়াও চ্যালেঞ্জের বিষয়।
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের সব নারীপ্রধান পরিবারকে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।