পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব
এতিম ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬, ১২:১৬
পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। এতিম শিক্ষার্থী ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যৌক্তিক মনে হলে এ বিষয়ে বিত্তবানদের সচেতন করতে আলেম-ওলামা ও মাশায়েখরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামি চিন্তাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান জাকাত বোর্ডকে পুনর্গঠন করা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে বাংলাদেশকে ইসলামী বিশ্বের কাছে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী দেশে অনেক বিত্তবান ব্যক্তি নিজ উদ্যোগেই জাকাত প্রদান করেন। কেউ কেউ সরকারি জাকাত বোর্ডের মাধ্যমেও তা পরিশোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর দেশে জাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে পরিকল্পিত ও সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না হওয়ায় এই বিপুল অর্থ দারিদ্র্য দূরীকরণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী জাকাত এমনভাবে বণ্টন করা উচিত যাতে একজন ব্যক্তি প্রথম বছর জাকাত গ্রহণ করার পর পরের বছর আর জাকাত গ্রহণের প্রয়োজন না পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে।
ইফতার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।