দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতির ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: | প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৬, ১৫:০৪

ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকারে এসে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। ঢাকায় অভিজাত বাড়ি কিংবা বিদেশে সম্পদ গড়ার চিন্তাও নেই; জনগণের জন্য কাজ করতেই তারা দায়িত্ব নিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ঈদগাহ আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিবার পরিচয়পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি। কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।”

পরিবার পরিচয়পত্র ও নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিচয়পত্র শুধু একটি পরিচয়ের মাধ্যম নয়, এটি পরিবারের নারীদের জন্য ক্ষমতায়নের প্রতীক। এর মাধ্যমে নারী প্রধানরা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি সমাজে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, “দেশ ইতোমধ্যে অনেক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। তাই অতীতের দিকে না তাকিয়ে আমাদের সামনে এগোতে হবে। কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা যায়, কীভাবে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো যায়, কর্মসংস্থান তৈরি করা যায় এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়—এসব লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

মন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খরা মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া পরিবার পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম থেকে দেশ বঞ্চিত হয়েছে। সেই ঘাটতি পূরণে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করেছে। ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতীকী উদ্বোধনের অংশ হিসেবে রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন নারীর হাতে পরিবার পরিচয়পত্র তুলে দেন অতিথিরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।

উল্লেখ্য, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সারা দেশে চালু করা এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শর্তসাপেক্ষে পরিবার পরিচয়পত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এর আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫৮৮ জন নারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে জরিপ পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক তালিকায় ১ হাজার ৩৫ জন নারীর নাম এলেও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে ১ হাজার ১০ জনের তথ্য সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাচাই করে ৫৮৮ জন যোগ্য নারীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top