দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। তবে এবার নিয়োগ ব্যবস্থায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয়ের পুরো দায়িত্ব এবার বহন করবেন নিয়োগকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়। উভয় দেশই স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অতীতের অনিয়ম ও দালাল চক্র রুখতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হচ্ছে। শুধুমাত্র অনুমোদিত ও বৈধ নিয়োগ সংস্থাগুলোই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। পুরো ব্যবস্থার তদারকি করবে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
শ্রমবাজারটি একসঙ্গে না খুলে ধাপে ধাপে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্মাণ খাতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৮০০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কাজ করছেন, যা দেশটির বিদেশি শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ। নির্মাণ, কৃষি ও শিল্প খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা বেশি থাকায় আগামী এক বছরে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমবাজারকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর আলোচনা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা একদিনে সমাধান সম্ভব নয়, তবে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।