ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) মর্যাদা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাতিল বা সময় কমিয়ে দেওয়ার যে খবর বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল, তা বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
সরকারি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদার মেয়াদ কমানো হয়নি। বরং পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে এক বছরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা ছয় মাসে সীমিত করা হয়েছে এবং আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষা পাবেন না। তবে সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী এ তথ্য সঠিক নয়।
২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১০ ফেব্রুয়ারির পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনটি বহাল রাখা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এক বছরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
নতুন প্রজ্ঞাপনে মূলত ভবিষ্যতে দায়িত্ব ছাড়বেন এমন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টাদের জন্য ছয় মাসের নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে আগের এক বছরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নির্দেশনা পুরোনো সিদ্ধান্তকে বাতিল করেনি; বরং সেটিকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে। ফলে ড. ইউনূসের নিরাপত্তা মর্যাদা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছিল, তা ভিত্তিহীন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজ্ঞাপনে পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এ নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এটি ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর একটি পরিবর্তনমাত্র, যা বর্তমান সুবিধাকে প্রভাবিত করে না।
সরকার আরও জানিয়েছে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ড. ইউনূস পূর্বনির্ধারিত নিরাপত্তা প্রটোকল ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষা পাবেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।