বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন: আহমেদ আযম খান
স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৩৬
বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। তবে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা হলে তখনই নেওয়া হবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব জানান। বর্তমানে খালেদা জিয়া হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে বিভিন্ন উন্নত হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী বেগম জিয়া নানা জটিল রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসে ইনফেকশন ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে।
এদিন সকালে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম। বেরিয়ে এসে তিনি বেগম জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, “বেগম জিয়ার অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিদেশ নেওয়া প্রয়োজন কিনা, তা মেডিকেল বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।”
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে এসে তার অবস্থার খোঁজ নেন। প্রতিনিধি দলের সদস্য ডা. তাসনিম জারা জানান, “অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও বেগম জিয়া সজাগ আছেন এবং চিকিৎসকদের নির্দেশ বুঝতে পারছেন।
অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।
একই দিনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তার সুস্থতা কামনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে শুক্রবার রাতে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতাল গিয়ে খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নেন।
চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।