বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

এস কে বাপ্পি, খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের আর কোনো জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারা কি কোনো অপরাধ করেছিল?”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “২০১৫ সালে আমি সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। সেদিন ঘুরতে আসিনি, এসেছিলাম দ্বীনদার ও ঈমানদার ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম।”

তিনি বলেন, যেসব মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, যেসব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকারে তাকিয়ে থাকত—‘আমাদের বাবা আসছে না কেন’—তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে তিনি এসেছিলেন।

শহীদদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু মা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—আমার সন্তানের কী দোষ ছিল? আমি বলেছিলাম, একটাই দোষ—আল্লাহ ছাড়া কাউকে কর্তৃত্বশালী মানি না, একমাত্র প্রশংসা আল্লাহর। এই বিশ্বাসের কারণেই তারা জীবন দিয়েছে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দুনিয়াতে বিচার না মিললেও ইনশাআল্লাহ আখিরাতে ন্যায়বিচার হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ করেছিলেন। অনেকেই বলেছিলেন, সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং “সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

জামায়াত আমির বলেন, “জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে।”

তিনি জানান, বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৫ তারিখে আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।”

তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না এবং চাঁদাবাজিতে জড়ানো যাবে না।

বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জুলুমের শিকার হয়েছেন।
“অনেক সময় নির্যাতিত মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি,” বলেন তিনি।

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।”

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোট মানে দুটি পথ—হ্যাঁ এবং না। হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে পরাধীনতা।” তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—, তক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।

এছাড়া ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top