মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

রূপপুরে ঐতিহাসিক দিন: প্রথম ইউনিটে শুরু হচ্ছে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৪

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম। বিকেলে সব প্রস্তুতি শেষে চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের অনুমোদন মেলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জ্বালানি লোডিং শেষে ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে পারে।

চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের পর উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এই প্রকল্পের আওতায় ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান Atomstroyexport

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা Rosatom-এর মহাপরিচালক Alexey Likhachev। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক সংস্থা International Atomic Energy Agency-এর মহাপরিচালক Rafael Grossi

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং শেষ হতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ধাপ পেরিয়ে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে সময় লাগতে পারে প্রায় ১০ মাস।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হলে একক ইউনিট থেকেই মিলবে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প স্বাধীনতার পর নতুন গতি পায় এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ-রাশিয়া চুক্তির মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। বর্তমানে দুই ইউনিটের কাজই শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হলেও এর নিরাপত্তা ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা জরুরি।

 
 


বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top