দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান খুলনা প্রেসক্লাব এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তারা বলেন, প্রেসক্লাবের মতো পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে হামলা হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে।
বক্তারা দাবি করেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুতই দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে গণমাধ্যম কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত দুই যুগে খুলনায় চারজন সাংবাদিক দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেসক্লাবে অনধিকার প্রবেশ, সভাপতি প্রার্থীকে হুমকি এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে সোমবার প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, একটি রাজনৈতিক দলের কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে হুমকি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা আসন্ন নির্বাচনকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সভাপতি প্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকে খুঁজে খুঁজে হুমকি দেওয়া হয় এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করা হয়।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং এর পেছনের নেপথ্য শক্তিকে খুঁজে বের করা জরুরি। কারা তাদের প্রেসক্লাবে পাঠিয়েছে, তা জনসমক্ষে আনার দাবি জানান বক্তারা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান এনামুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এছাড়াও বিভিন্ন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন চলাকালে প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কে কিছু সময় অবরোধ সৃষ্টি হয়। সমাবেশে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।