মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত শ্রীলীলা
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩:০৪
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রীলীলার বয়স মাত্র ২৪ বছর। তবে বয়সের সীমা ছাপিয়ে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই তরুণ তারকা। অভিনয়জীবনের ব্যস্ততার মাঝেই তিনি তিনটি ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুর দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রমাণ করেছেন—খ্যাতি ও সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
‘ভগবন্ত কেশরি’ ও ‘ধামাকা’ খ্যাত অভিনেত্রী সম্প্রতি প্রথমবারের মতো নিজের এই সিদ্ধান্ত এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন। গালাত্তা প্লাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্রীলীলা জানান, এত বড় একটি দায়িত্ব তার ব্যক্তিগত জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং ব্যস্ত শুটিং সূচির মধ্যেও তিনি কীভাবে শিশুদের খোঁজখবর রাখেন।
সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে শ্রীলীলা বলেন,
‘এ বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলি। খুব নার্ভাস লাগে। তবে ওদের যত্ন ঠিকভাবেই নেওয়া হচ্ছে।’
শিশুদের দায়িত্ব নেওয়ার পেছনের গল্পও তুলে ধরেন তিনি। কন্নড় ভাষায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে একটি সিনেমার শুটিংয়ের সময় ‘কিস’ ছবির পরিচালক এ পি অর্জুন তাকে একটি আশ্রমে নিয়ে যান। সেখানেই প্রথম এই শিশুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শ্রীলীলা বলেন,
‘ওরা সেখানেই থাকে। আমরা ফোনে কথা বলি, আর সুযোগ পেলেই গিয়ে ওদের সঙ্গে দেখা করি। অনেক দিন ধরে বিষয়টি গোপন রেখেছিলাম।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত আবেগ থেকে নেওয়া নয়; বরং সমাজে দত্তক গ্রহণ ও ভিন্নভাবে সক্ষম শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা তৈরিই তার মূল উদ্দেশ্য।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে শ্রীলীলা প্রথম দুই শিশুকে দত্তক নেন। তাদের নাম গুরু ও শোভিথা। তারা দুজনই ভিন্নভাবে সক্ষম এবং একটি প্রতিষ্ঠানে থেকে লালনপালন হচ্ছে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও একটি কন্যাশিশুর দায়িত্ব নেন তিনি। এতে তার দত্তক নেওয়া সন্তানের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে।
সেই সময় ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন একটি পোস্টের মাধ্যমে শ্রীলীলা ভক্তদের সঙ্গে নিজের এই সিদ্ধান্ত ভাগ করে নেন এবং শিশুদের পরিচয় তুলে ধরেন।
অল্প বয়সে এমন সাহসী ও মানবিক সিদ্ধান্ত শ্রীলীলাকে কেবল একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবেই নয়, বরং সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।