টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
দুই মাসে ঠান্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১ লাখ, মৃত্যু ৪৬
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা | প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৬
টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের জনজীবন। হাড়কাঁপানো শীতে সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে (১ নভেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত) শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় এক লাখ মানুষ। এ সময়ে মারা গেছেন ৪৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লিখিত সময়ে মোট ৯৮ হাজার ৭৪১ জন রোগী ঠান্ডাজনিত জটিলতায় হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হন ২৯ হাজার ৫৫৫ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। পাশাপাশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ হাজার ১৮৬ জন, এতে মারা গেছেন ৬ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক চট্টগ্রাম বিভাগে।
এদিকে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, শীতের কারণে শিশু রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় এবং তীব্র শীতে শ্বাসনালির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ডায়রিয়ার মতো রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শিশু রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, শিশুদের বিশেষভাবে উষ্ণ রাখা এবং ঠান্ডাজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শীত মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।