শহরের ছোঁয়া পাবে ডুমুরিয়ার তিন গ্রাম
এস কে বাপ্পি | খুলনা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৪৩
পুরো শহরের মতো অট্টালিকা, ফোয়ারা বা ভাস্কর্য না থাকলেও শহরসভ্যতার মৌলিক সুবিধা পেতে যাচ্ছে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তিনটি গ্রাম। জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততামুক্ত পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জীবনব্যাপী শিক্ষা এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এসব গ্রামে।
এই উদ্যোগের আওতায় ডুমুরিয়া উপজেলার উলা, তেলিখালী ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামকে সাজানো হবে ‘এসডিজি গ্রাম’ হিসেবে। এতে উপকৃত হবে প্রায় ৯ হাজার নারী-পুরুষ।
গ্রামগুলোর অবস্থান ও জনসংখ্যা
উপজেলা সদর থেকে উলা গ্রাম ৮ কিলোমিটার, তেলিখালী ১১ কিলোমিটার এবং রামকৃষ্ণপুর ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। উলা ও তেলিখালী ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নে এবং রামকৃষ্ণপুর রংপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত।
উপজেলা সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, উলা গ্রামে বসবাস করছে ৩ হাজার ১৮৬ জন, তেলিখালীতে ১ হাজার ১৯৫ জন এবং রামকৃষ্ণপুরে ৪ হাজার ৬৪৩ জন মানুষ।
প্রকল্পের নাম ও লক্ষ্য
গ্রামগুলোতে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি গড়তে নেওয়া হয়েছে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্প—
‘টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এসডিজি গ্রাম নির্বাচন’।
দেশের আরও চারটি উপজেলার তিনটি করে গ্রামে একই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্প পরিদর্শন ও সভা
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন গত মাসে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এছাড়া খুলনা জেলা প্রশাসনের সভায় সংশ্লিষ্টদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক অবহিত করা হয়।
সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে—
-
লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা দূর করা
-
মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো
-
ন্যায়বিচার ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত
-
নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
-
গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন
এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
জনপ্রতিনিধিদের মতামত
ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমাদ বলেন,
“ভদ্রা, শলতা ও শোলমারি নদী খনন হলে গ্রামগুলো জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। উলা গ্রামে মৌসুমি সবজির উৎপাদন বাড়বে। তেলিখালীতে ধান উৎপাদন স্বাভাবিক থাকবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।”
রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমরেশ মণ্ডল বলেন,
“জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা দূর হলে বোরো ধানের উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।”
বাস্তবায়ন সময়
আগামী সরকারের মেয়াদের শুরুর দিকেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।