শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস: ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের জন্য ‘বেঞ্চমার্ক’ হবে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:১৮

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচন ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য একটি স্থায়ী মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রম আইনের সংস্কার, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা এই নির্বাচনকে একটি ‘উৎসবমুখর’ আয়োজন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সুস্থ ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ মাসে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ীদের সঙ্গে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নতুন শ্রম আইনের প্রশংসা করে তিনি সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।

আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির দিকগুলি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইতিমধ্যে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপ’-এর জন্য আবেদন করেছে। এছাড়া সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করে আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার প্রশংসা করা হয় এবং সম্প্রতি বিশ্বের ৭৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ভিসা বিধিনিষেধের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।

অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সূত্র: বাসস



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top