রাজধানীর মহাখালী এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক ছবি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, এক যুবকের কোলে তিন বছর বয়সী শিশু সাদমানের মরদেহ। ঘটনাটি সামনে আসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ডেডিকেটেড হাসপাতালের সামনে থেকে, যা দ্রুতই নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
ছবিটি প্রকাশের পর অনেকেই দাবি করেন, মরদেহ কোলে থাকা ব্যক্তি শিশুটির বাবা। তবে পরে জানা যায়, বিষয়টি সঠিক নয়। শিশুটির মা মিম আক্তার জানান, ছবিতে থাকা ব্যক্তি সাদমানের বাবা নন; তিনি শিশুটির দুলাভাই রাফি।
মিম আক্তার জানান, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার স্বামী মো. সজিব ভেঙে পড়েছেন এবং শোক সহ্য করতে না পেরে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সাদমান ছিল চঞ্চল ও প্রাণবন্ত একটি শিশু। অসুস্থতার সময়ও সে সাহসী ছিল, তবে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটে।
এদিকে, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাদমানের মা। তার দাবি, চিকিৎসায় অবহেলা করা হয়েছে। নার্সদের ডেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি এবং অক্সিজেন সংক্রান্ত সমস্যার সময় যথাযথ সহায়তা মেলেনি। আইসিইউ থেকে সন্তানের অবস্থার উন্নতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট সম্পর্কেও সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি বলে জানান।
অন্যদিকে, সাদমানের দুলাভাই রাফি বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে যান এবং মরদেহ নিয়ে বের হয়ে আসেন। সময় ও খরচ বিবেচনায় তারা সিএনজি অটোরিকশায় করে বাসায় ফেরেন। পথে কেউ শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে সংক্ষেপে উত্তর দেন বলেও জানান তিনি।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডা. আসিফ হায়দার জানান, গত ১৬ এপ্রিল হামের উপসর্গ নিয়ে সাদমানকে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে ১৮ এপ্রিল তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে নেওয়া হয়। পরে নিউমোনিয়া বা সেপটিসেমিয়ার মতো জটিল সংক্রমণ দেখা দেয়।
তিনি আরও জানান, পেডিয়াট্রিক ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হলেও শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।