বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম, অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা

বানিজ্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দেখা গেছে দরপতন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দিনের শুরুতে এশিয়ার শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা—দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমে স্থিতিশীলতা ফিরবে, যা জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আনতে পারে।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুজানা স্ট্রিটার বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অনিশ্চিত। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৯০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

বুধবার অন্তত তিনটি কন্টেইনার জাহাজে ইরানি গানবোট থেকে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দুটি জাহাজ জব্দ করার দাবি জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সংলাপের চেষ্টা চললেও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং তেলের দাম বাড়ছে, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং কর্পোরেশনের কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের প্রভাব বাড়াতে কৌশলগত অবস্থান নিচ্ছে। কে আগে ছাড় দেবে—এমন এক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় রয়েছে দুই পক্ষ। এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: এএফপি



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top