বৃহঃস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ কঙ্গনার

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২২

সংগৃহীত

মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। এ ইস্যুতে এবার কড়া ভাষায় মমতাকে আক্রমণ করলেন অভিনেত্রী-রাজনীতিক কঙ্গনা রানাউত।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সংসদ ভবন থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন কঙ্গনা। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে হিন্দুস্থান টাইমস।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যু নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে ‘নীচু মানসিকতার’ বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। তিনি বলেন, “এত বড় একটি দুর্ঘটনা ভোরবেলায় ঘটেছে। আমরা সবাই গভীর শোকের মধ্যে আছি। আজ সংসদে প্রায় সবাই এই বিষয় নিয়েই আলোচনা করছে। অনেক রাজনৈতিক নেতা হেলিকপ্টার বা বিমানে যাতায়াত করেন—আমরাও করি। এমন সময় এ ধরনের মন্তব্য করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তার আরও সংযম দেখানো উচিত ছিল।”

উল্লেখ্য, অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে শোক প্রকাশ করে তিনি লেখেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত হওয়া জরুরি। পরে এক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো আপসকামিতায় জড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের ওপর ভরসা করা যায় না।

পিটিআই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, “এই দেশে রাজনৈতিক নেতারাও নিরাপদ নন, সাধারণ মানুষের কথা তো বাদই দিলাম।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার মাত্র দু’দিন আগে তিনি জানতে পেরেছিলেন—অন্য একটি দল থেকে বলা হয়েছিল, অজিত পাওয়ার বিজেপি নেতৃত্বাধীন শাসক জোট ছাড়তে প্রস্তুত ছিলেন। এর পরই এই ঘটনা ঘটে যায়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভরসা শুধু সুপ্রিম কোর্টের ওপর। অন্য কোনো সংস্থার ওপর নয়। সব কেন্দ্রীয় সংস্থা পুরোপুরি আপসকামিতায় আক্রান্ত।”

মমতার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মনে করছেন, এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালে অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বে বিভক্ত হওয়া এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি) আবার এক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের মৃত্যু

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার মারা যান। তিনি মহারাষ্ট্রের বারামতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।

অজিত পাওয়ারসহ পাঁচজন আরোহী নিয়ে বিমানটি খারাপ দৃশ্যমানতার মধ্যে বারামতি এয়ারস্ট্রিপে অবতরণের চেষ্টা করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আঘাতের পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে মরদেহগুলো চাক্ষুষভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তার আকস্মিক মৃত্যু মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আজ তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। ‘অন্তিম যাত্রা’র জন্য সাজানো রথে করে তার মরদেহ বহন করা হবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top