শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান: সজীব ওয়াজেদ জয়
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮:৪৭
আওয়ামী লীগ যদি ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সেক্ষেত্রে দলটির নেতৃত্বে আর শেখ হাসিনাকে নাও দেখা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে ও দলের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন এবং এটি তার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল।
ওয়াশিংটন ডিসিতে নিজের বাসভবনে আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, “আমার মা দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। বিদেশে থাকতে চান না। বয়সও হয়েছে।”
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জয় বলেন, “আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় দল। আমাদের ৪০–৫০ শতাংশ ভোট রয়েছে। শেখ হাসিনাকে সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই দলটি চলতে পারে।” ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “সম্ভবত তাই।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে, ফলে দলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
নির্বাচন ও সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো সহিংসতায় উসকানি দেয়নি। বরং দলটির ওপর দমন-পীড়ন চালানো হলে সহিংসতা তৈরি হতে পারে—এমন বাস্তবতা তুলে ধরেছেন তিনি। তিনি দাবি করেন, “আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না।”
জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের দায় প্রসঙ্গে জয় বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার ‘মিসহ্যান্ডেল’ করেছিল, তবে বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ শেখ হাসিনা দেননি। তার ভাষায়, “আমার মা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তাহলে তিনি এখনও ক্ষমতায় থাকতেন।”
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ও দায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে জয় বলেন, সরকার পতনের পরও বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হচ্ছে। “বিচার হতে হবে সবার জন্য সমান। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়,” বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে জয় আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের আমলে কোনো দল নিষিদ্ধ করা হয়নি এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের রায়ে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।