বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

ঢাকা-১২: তিন সাইফুলে বিভ্রান্ত ভোটাররা, কে হাসবেন শেষ হাসি!

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:২৭

ঢাকা-১২: তিন সাইফুলে বিভ্রান্ত ভোটাররা, কে হাসবেন শেষ হাসি!। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল, শেরে বাংলানগর ও রমনা থানার বেশ কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। রাজধানীর ব্যবসায়িক হাব হিসেবে পরিচিত কারওয়ান বাজার এই নির্বাচনি এলাকার অন্তর্গত। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ও এই আসনে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের দিকে নজর রয়েছে দেশবাসীর।

সারাদেশের মতো এই আসনেও জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। এবারের নির্বাচনে সারাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনেই। তবে ভিন্ন একটি কারণে এবার আলোচনার কেন্দ্রে ঢাকা-১২—এখানে প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর নামই ‘সাইফুল’।

অনেকে মজা করে বলছেন, ফলাফল যাই হোক—এই আসনের সংসদ সদস্য হবেন ‘সাইফুল’। তবে একই নামে তিন প্রার্থী থাকায় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। কে হাসবেন শেষ হাসি—তা নিয়েই জনমনে কৌতূহল।

এই আসনে তিন সাইফুলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে। সাইফুল আলম নীরব — স্বতন্ত্র প্রার্থী, ফুটবল প্রতীক (বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা) সাইফুল হক — বিএনপি জোট সমর্থিত, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কোদাল প্রতীক,  মো. সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক।

জোটপ্রার্থী সাইফুল হক উন্নয়ন ও ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় রাস্তা, ড্রেনেজ, শিক্ষা ও সামাজিক অবকাঠামোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট ও নাগরিক সুবিধার ঘাটতির বিষয় সামনে এনে পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরির চেষ্টা করছেন তিনি।

এই তিন সাইফুল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আরও প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কাস্তে (কমিউনিস্ট পার্টি), মোমবাতি (ইসলামী ফ্রন্ট), সিংহ (এনডিএম), প্রজাপতি (আমজনতার দল), লাঙ্গল (জাতীয় পার্টি), হাতপাখা (ইসলামী আন্দোলন), কলম (জনতার দল), আপেল (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), ছড়ি (মুক্তিজোট), ট্রাক (গণঅধিকার পরিষদ), মাথাল (গণসংহতি আন্দোলন), কাঁঠান (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি) প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন।

এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৩০ জন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা আগ্রহী হলেও একই নামে তিন প্রার্থী থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা আহমেদ আলী বলেন, “মাইকে বলা হয়—‘সাইফুল ভাইকে ভোট দিন’। কিন্তু কোন সাইফুল, সেটা বোঝা মুশকিল।”

রহমান উদ্দিন বলেন, “নাম এক হওয়ায় প্রতীক মনে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। পরিচিত মুখ না হলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।”

আগারগাঁও এলাকার বাসিন্দা সবুর মিয়া জানান, তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের পক্ষেই ভোট দিতে চান। অন্যদিকে হাতিরঝিল এলাকার গফুর মিয়া বলেন, “ধানের শীষ না থাকায় বিএনপির প্রকৃত প্রার্থী কে—তা বোঝা কঠিন।”

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটপ্রার্থী সাইফুল হক এলাকায় ততটা পরিচিত নন। স্থানীয় বিএনপির বড় একটি অংশ তার সঙ্গে নেই। ফলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াত প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।

সাইফুল আলম নীরব (ফুটবল) বলেন, “আমি শতভাগ আশাবাদী। বিজয়ী হলে চাঁদাবাজি বন্ধ, মাদক নির্মূল ও শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করব।”

মো. সাইফুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) বলেন, “নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবেন। আমি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব।”

সাইফুল হক (কোদাল) বলেন, “বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমি বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ। নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।”

ঢাকা-১২ আসনে শেষ পর্যন্ত কোন ‘সাইফুল’ ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন—তা জানতে এখন অপেক্ষা ভোটের দিনের।

 

সুত্র: ঢাকা মেইল



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top