তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: জামায়াত আমির
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৫১
“তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই। সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে”—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে “বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়” শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ।
সংসদীয় কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করা। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। জনগণের করের একেকটি টাকার হিসাব দেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এখন পর্যন্ত জাতীয় সংসদ থেকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তেমন কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, পুরো সমাজ এখন চলছে নানা ধরনের গোঁজামিল ও বাহ্যিক সাজসজ্জার ওপর নির্ভর করে।
ব্যাংকিং খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খাতায় লাভ দেখানো হলেও বাস্তবে নগদ অর্থের ঘাটতি রয়েছে।
এ সময় তিনি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখানে নাকি অন্য সংগঠনের মতো নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা চলছে, যা একটি ‘খারাপ সংস্কৃতি’।
কৃষিকে দেশের মেরুদণ্ড উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, কৃষি খাতে বিপর্যয় ঘটলে কোনো বৈদেশিক সহায়তাই দেশকে স্থিতিশীল রাখতে পারবে না।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি মজুত থাকার কথা বলা হলেও বাস্তবে সংকট রয়েছে। এই সংকট কৃষি উৎপাদন, বিশেষ করে বোরো চাষে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে চলমান অস্থিরতার প্রভাব আগামী কয়েক মাস অব্যাহত থাকতে পারে।
সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চাহিদা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং অন্তত ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একই ধরনের অনিয়ম, দমননীতি ও সিন্ডিকেট অব্যাহত থাকলে তারা জনগণের শক্তি নিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।
অ্যাগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর এ টি এম মাহবুব-ই-ইলাহীর সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ১৮ শতাংশ কৃষি খাতে ব্যবহৃত হয়, এবং বর্তমান সংকটে বোরো ধান চাষে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।