সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

নওগাঁর ঘুঘুডাঙায় গহের আলীর ১৮ হাজার তালগাছের সম্রাজ্য ঘুরে এলেন গবেষকরা

সামাজিক কথন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:০৯

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বায়োলজিক্যাল স্যাম্পল সংগ্রহের কাজে কাজের সফরে নওগাঁ গিয়েছেন জুনোটিক ভাইরাসের গবেষক। এ ধরনের ফিল্ড ভ্রমণে সাধারণত গল্পের বই পড়া এবং স্থানীয় সংস্কৃতি জানার আনন্দও থাকে। এবার তার ভ্রমণসঙ্গী ছিল বাবর আলীর ‘এভারেস্ট ও লোৎসে শিখরে’—যেখানে লেখক তার এভারেস্ট ও লোৎসে অভিযানের গল্প এবং পাহাড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন।

ভ্রমণকারীরা নওগাঁ ডাকবাংলোতে অবস্থান নেন। সন্ধ্যার দিকে ডাকবাংলোর কাছেই অবস্থিত ‘মুক্তির মোড়’-এ তারা স্থানীয় নাস্তা ও লাল চায়ের স্বাদ নেন। সামাজিক মাধ্যমে চেক-ইন দেওয়ার পর বন্ধু তালুকদার জানান ঘুঘুডাঙায় অবস্থিত গহের আলীর বিখ্যাত তালসাম্রাজ্যের কথা।

গহের আলীর তালসাম্রাজ্য
গহের আলী, এক সময়ের দিনমজুর, আজ ১৮ হাজার তালগাছের মাধ্যমে একটি জীবন্ত স্মৃতি রচনা করেছেন। প্রতিদিন তিনি তালের আঁটি রাস্তার দু’পাশে পুঁতে গেছেন এবং বলতেন, “আমি বাঁচবো না, গাছগুলো বেঁচে থাকবে।”

পরের দিন ভ্রমণকারীরা ছাতড়া বাজার ও আশেপাশের গ্রামীণ এলাকা ঘুরে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনধারা ও হস্তশিল্প সম্পর্কে জানেন। মকর সংক্রান্তির সময় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মাটির দেওয়ালে আঁকা আল্পনার সৌন্দর্য দেখার জন্য স্থানীয় বাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।

ঘুঘুডাঙায় পৌঁছানো
ছাতড়া থেকে প্রায় ১৫–২০ মিনিট পথ পাড়ি দিয়ে তারা ঘুঘুডাঙায় পৌঁছান। দিগন্তজোড়া তালগাছের সারি ঘিরে থাকা এই এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের জন্য বসার ব্যবস্থা করা আছে। বিকালের মৃদু রোদে ঘুঘুডাঙার পরিবেশ আরও মনোরম হয়ে ওঠে। স্থানীয় এবং ঢাকার পর্যটকরা ছবি তোলেন। গবেষক দেখেন, নিঃস্ব একজন মানুষও কীভাবে পুরো এলাকার প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারেন।

গহের আলীর গাছগুলো শুধু বৃক্ষ নয়, বরং তার জীবনের স্মৃতিসমূহের নিদর্শন। ঘুঘুডাঙায় ভ্রমণকারীরা এক নিঃশব্দ কিংবদন্তির কীর্তি সরাসরি চোখে দেখার অভিজ্ঞতা পান।

লেখক পরিচিতি: গবেষণা কর্মকর্তা, মলিকুলার বায়োলজি, জুনোটিক ডিজিজ রিসার্চ প্রোগ্রাম, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top