আধুনিক ব্যাংকিং বিপ্লবের গল্প: এটিএম-এর উত্থান
তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৮
আজকের যুগে অটোমেটেড টেলার মেশিন (ATM) ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। যে কোনো সময় ব্যাংকিং লেনদেন করার এই সুবিধা আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। তবে কি জানেন, এটিএম-এর ধারণা প্রথম এসেছিল লুথার সিমজিয়ানের মাথা থেকে?
১৯৩৯ সালে তিনি একটি “হোল-ইন-দ্য-ওয়াল” মেশিনের ধারণা দেন এবং ২০টি পেটেন্টের আবেদন করেন। তবে গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে তৎকালীন সিটি করপোরেশন (বর্তমান সিটিব্যাংক) মাত্র ছয় মাসের ব্যবহারের পর মেশিনটি বন্ধ করে দেয়।
আধুনিক এটিএমের পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য হন স্কটল্যান্ডের জেমস গুডফেলো, যিনি ১৯৬৬ সালে প্যাটেন্ট পান। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের বার্কলেস ব্যাংকে জন শেফার্ড-ব্যারন প্রথম এটিএম সফলভাবে স্থাপন করেন। ১৯৬৮ সালে ডন ওয়েজেল আমেরিকায় আধুনিক এটিএম তৈরি করেন।
বিবিসি নিউজ ও বার্কলেস ব্যাংকের তথ্যমতে, ১৯৬৭ সালের ২৭ জুন উত্তর লন্ডনের এনফিল্ড শাখায় বিশ্বের প্রথম এটিএম স্থাপিত হয়। তখন কার্ডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হতো বিশেষ চেক, যেখানে কার্বন-১৪ নামের হালকা তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশানো থাকত। মেশিনটি এই চেক শনাক্ত করে পিন নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে টাকা প্রদান করত।
মজার বিষয়, শেফার্ড-ব্যারন প্রথমে ৬ ডিজিটের পিন চালু করার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু তাঁর স্ত্রী ক্যারোলিন জানান, ৪ ডিজিটের বেশি মনে রাখা কঠিন। তাই আজও আমরা ৪ ডিজিটের পিন ব্যবহার করি। নিরাপত্তার জন্য এই প্রযুক্তি পেটেন্ট নয়, বরং বাণিজ্যিক গোপনীয়তা হিসেবে রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৮ সালে ডন ওয়েজেল ড্যালাসের একটি ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে এটিএমের ধারণা পান। ডকিউটেল কোম্পানির সহায়তায় প্রায় ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে এটিএমের আধুনিক রূপ তৈরি করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি পেটেন্ট পান এবং নিউইয়র্কের কেমিক্যাল ব্যাংকে প্রথম মেশিন স্থাপন করেন।
প্রথম দিকের এটিএম শুধু টাকা উত্তোলন করতে পারত। ১৯৭১ সালে ডন ওয়েজেল টোটাল টেলার তৈরি করেন, যা আমানত গ্রহণ, অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর ও ক্রেডিট কার্ড থেকে অগ্রিম টাকা উত্তোলন করতে সক্ষম। প্রথম এটিএম আজকের অনলাইন সুবিধার মতো সরাসরি ব্যাংকের মূল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
ডন ওয়েজেল ও তাঁর দলই প্রথম ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ যুক্ত কার্ড উদ্ভাবন করেন, যা আধুনিক ব্যাংকিংয়ে বিপ্লব ঘটায়।
সূত্র: থট কো, ব্রিটানিকা
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।