সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

ইরানে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর ৮ সদস্য নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৪

সংগৃহীত

ইরানে চলমান বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর এলিট শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৮ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভ দমনকালে তারা নিহত হন। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আল জাজিরা এই খবর প্রকাশ করেছে।

বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর, যখন তেহরানের ব্যবসায়ীরা ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। এরপর তা কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।

ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স। তিন দেশের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইরানকে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানও সহিংসতায় ‘গভীর উদ্বিগ্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে, তারা সশস্ত্র নাশকতাকারী। ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের গোয়েন্দা শাখাও জানিয়েছে, শত্রুর পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানান এবং বিদেশি শক্তি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকানি দেওয়ার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।

সরকার সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিক্ষোভ এখনও থামেনি। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। ১,২০০-এর বেশি মানুষ আটক এবং প্রায় ৩০০ পুলিশ ও আইআরজিসি সদস্য আহত হয়েছেন।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খামেনির ইংরেজি অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে সহিংসতায় রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান জুড়ে বড় ধরনের দমন অভিযান যে কোনো সময় শুরু হতে পারে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top