সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত অভিযোগে ইরানে প্রথমবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫৯
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ইরানে প্রথমবারের মতো একজন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফাঁসি দেওয়া হতে পারে।
ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) এবং ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্র্যাসি ইন ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কারাজ শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এরফান সোলতানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার পরিবারকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত তারিখেই দণ্ড কার্যকর হতে পারে।
সংগঠনগুলোর দাবি, গ্রেপ্তারের পর এরফান সোলতানিকে আইনজীবীর সহায়তা দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে দমন-পীড়ন চলছে, তা ১৯৮০-এর দশকের মানবতাবিরোধী অপরাধের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে গণহারে ও বিচারবহির্ভূত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর।
ন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর ডেমোক্র্যাসি ইন ইরান জানিয়েছে, এরফান সোলতানির একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল ইরানের জন্য স্বাধীনতার দাবি তোলা। সংগঠনটি তার মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এরফান সোলতানির বিরুদ্ধে ‘আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ (মোহারেবেহ) অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানের আইনে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানের অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও তারা জানিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ইরান সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানে সামরিক হামলার বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে, তবে কূটনীতি এখনো প্রথম পছন্দ। প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, তেহরানের রাস্তায় মানুষ নিহত হওয়া যুক্তরাষ্ট্র দেখতে চায় না, অথচ সেটাই এখন ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই ট্রাম্পের সামরিক হুমকি নিয়ে সমালোচনা চলছে। কংগ্রেসের একাধিক আইনপ্রণেতা বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত সংবিধানবিরোধী এবং এতে উল্টো ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরান সরকার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।