বৃহঃস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২

ইরানে হত্যা বন্ধের আশ্বাস পেলেন ট্রাম্প, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে না তেহরান

আল–জাজিরা | প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৭

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান এই বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের “খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের” সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, “আমরা প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবো” এবং মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘খুব ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইরান বিষয়ক তার সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, “ট্রাম্প এখনো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তবে তার বক্তব্যে পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, পূর্বে দেওয়া সামরিক হুমকি থেকে তিনি কিছুটা সরে আসছেন।”

২০২২ সালের পর থেকে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই দেশটির বড় অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ২,৫৭১–এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১২ শিশু রয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’।

বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ইরান সরকার এই বিক্ষোভ ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top