ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি: কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি আরব আমিরাতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩০
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে কৌশলগত ও কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক এবং প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের উপদেষ্টা আনওয়ার গারগাশ বলেছেন, সংঘাতে সরাসরি জড়াতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত আরও শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে আমিরাত।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানের অভিযোগ, এ যুদ্ধে কিছু আরব দেশও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
টানা প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতও নিজেদের অবস্থানকে সফল বলে তুলে ধরেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আনওয়ার গারগাশ জানান, দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে সরাসরি জড়ানো থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে আমিরাত।
তিনি বলেন, তারা এমন একটি পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, যা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা ও অর্জন অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হয়েছে। আবুধাবির মতে, এই সংকটে তারা শুধু নিরাপত্তা বজায় রাখেনি, বরং কূটনৈতিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছে।
গারগাশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের পুরো সময়টাতে হিসাব করে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেছে আমিরাত। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা—এই দ্বিমুখী কৌশল তাদের সংঘাতের বাইরে থাকতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের গুরুত্বও তুলে ধরতে পেরেছে দেশটি।
তিনি আরও বলেন, এই অভিজ্ঞতা আমিরাতকে ভবিষ্যতে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে উপসাগরীয় নিরাপত্তা, সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
এদিকে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আমিরাত। যুদ্ধবিরতির ফলে এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দেশটি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।