খালেদা জিয়ার জানাজায় সার্কের চেতনার দৃঢ় প্রকাশ: প্রফেসর ইউনূস
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৭
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিকে সার্কের চেতনার জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “সার্ক এখনো বেঁচে আছে, সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের দ্বিতীয় মুসলিম নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সার্কভুক্ত দেশগুলো যেভাবে সম্মান ও সংহতি প্রকাশ করেছে, তাতে তিনি গভীরভাবে অভিভূত হয়েছেন।
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ।
জানাজা শেষে পাকিস্তানের সংসদীয় স্পিকারসহ নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফররত প্রতিনিধিরা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্রের জন্য তার আজীবন সংগ্রাম ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তারা অভিভূত।
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এতে বোঝা যায়, মানুষ তাকে কতটা সত্যিকারের ভালোবাসতেন।”
সবকটি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা—সার্ক—পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মালদ্বীপের মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “গতকাল জানাজায় আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি।”
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথকে তিনি বলেন, “সার্ক সক্রিয় ছিল। আমরা একসঙ্গে আমাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।” এ সময় তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে সার্ক নেতাদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জন্য একটি অর্থবহ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্ক পুনরুজ্জীবিত হবে—এমন প্রত্যাশা তার রয়েছে।
বৈঠকগুলোতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
তিনি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে জানান, নির্বাচনের পর তিনি তার পূর্বের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাবেন।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বাংলাদেশের প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানান।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু করার পর বিদেশে বসবাসকারী ও কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ বলেন, “আমরা আপনাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখব।”
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।