হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আজ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১
ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ইনকিলাব মঞ্চের পূর্বঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
তিনি জানান, শনিবার ও রোববার বাংলাদেশপন্থী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হাদি হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার মামলার চার্জশিট দাখিলের আল্টিমেটাম দিয়েছে সংগঠনটি। দাবি পূরণ না হলে ৭ জানুয়ারির পর আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি
১. খুনি, খুনের পরিকল্পনাকারী, খুনে সহায়তাকারী, পলায়নে সহযোগী ও আশ্রয়দাতাসহ পুরো খুনিচক্রের বিরুদ্ধে আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে।
২. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
৩. ভারত তার অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।
৪. সিভিল ও মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরদিন ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয়। ২০ ডিসেম্বর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির কাছেই এই জুলাইযোদ্ধাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক সংগঠন বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।