বৃহঃস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার । ঢাকা | প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:২২

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করতে পাকিস্তানের কাছ থেকে আধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তান সফরকালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবার সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন–এর খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে শুধু যুদ্ধবিমান ক্রয় নয়, বরং প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, পুরোনো উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, রাডার ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আকাশ নজরদারি জোরদারসহ সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অ্যারোস্পেস প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

বৈঠকে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উন্নত পর্যায়ের প্রশিক্ষণসহ পূর্ণাঙ্গ সহায়তার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে দ্রুত সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান পাকিস্তানের যুদ্ধ-অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি পুরোনো উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, আকাশসীমা নজরদারি জোরদারে এয়ার ডিফেন্স রাডার একীভূতকরণ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্য ক্রয়ের বিষয়ে সহায়তা কামনা করেন। সফরকালে প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও পরিদর্শন করে।

আইএসপিআর জানায়, এই সফর দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে নতুনভাবে তুলে ধরেছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করেছে।

চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত জেএফ-১৭ থান্ডার একটি হালকা ও বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি দিন ও রাতসহ সব ধরনের আবহাওয়ায় অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। আকাশযুদ্ধ, ভূমিতে হামলা ও নজরদারিসহ নানা ধরনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত এই যুদ্ধবিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং আধুনিক অস্ত্র বহনে সক্ষম।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top