ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৯:১৪
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট গণনায় কিছুটা দেরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
প্রেস সচিব বলেন, “একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোট গণনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক দীর্ঘ হতে পারে।” তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের সময় তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশের কাছে থাকবে ২৫ হাজার ৫০০ বডি অন ক্যামেরা। এসব ক্যামেরার ফুটেজ ‘নির্বাচনি সুরক্ষা’ অ্যাপে যুক্ত হবে, যার মাধ্যমে দ্রুত প্রতিক্রিয়া (কুইক রেসপন্স) নিশ্চিত করা হবে।
ভোটের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় ১ লাখ সেনা সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও অন্যান্য বাহিনীও দায়িত্বে থাকবে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে ৫০০টি ড্রোন।
তিনি আরও জানান, পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ওই দুই আসনসহ দেশের সব ৩০০ আসনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেস সচিবের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মোট ১ হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী। নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার, ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, ‘নির্বাচনি সুরক্ষা’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন, যা নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।