আইসিজে রোহিঙ্গা মামলায় মিয়ানমারের অবস্থানে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৭
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার মামলায় মিয়ানমারের সাম্প্রতিক উপস্থাপনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে, যা ২০১৬-১৭ সালের ভয়াবহ ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’-এর দায় এড়ানোর অপচেষ্টা।
বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছে, রোহিঙ্গারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাসরত একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। ‘রোহাং’ বা ‘রোশাং’ নাম থেকেই ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়ের উৎপত্তি, যা তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক পরিচয়ের অংশ। স্বাধীনতা-পূর্ব বার্মার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতেও তাদের উপস্থিতি সুস্পষ্ট ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বাদ দেয়। পরবর্তী সময়ে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং ২০১৫ সালের নির্বাচনে তারা পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৬-১৭ সালে তাদের রাখাইন থেকে বিতাড়িত করে রাষ্ট্রহীন করে তোলা হয়।
বাংলাদেশ সরকার জানায়, রোহিঙ্গা ভাষার সঙ্গে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার কিছু সাদৃশ্য থাকলেও এটি বাংলা থেকে স্বতন্ত্র। রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা তাদের আত্মপরিচয়ের অস্বীকৃতি এবং জাতিগত নির্মূলের অংশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭৮ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘আইনসম্মত বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং সমান অধিকারসহ সমাজে অন্তর্ভুক্তির প্রতিশ্রুতি ছিল। তবে গত আট বছরেও মিয়ানমার রাখাইনে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৭-১৮ সালের চুক্তি সত্ত্বেও নানা অজুহাতে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করা হচ্ছে, যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ধ্বংসের উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশ ২০২৩ সালের ৬ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এক কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে করা দাবিরও প্রতিবাদ জানায়। মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘অর্ধ-মিলিয়ন বাঙালি’ রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। বাংলাদেশ জানায়, ১৯৭১ সালে রাখাইনের মোট জনসংখ্যাই ছিল ১.৭ মিলিয়নের কম। এত বড় শরণার্থী প্রবাহ হলে তা আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসত, যার কোনো প্রমাণ পরবর্তী আদমশুমারিতে পাওয়া যায়নি।
শেষে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার ও রাখাইনের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত না করে প্রকৃত সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানানো হয়।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।