জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষায় অধ্যাদেশ জারি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:১৯
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট রোববার প্রকাশ করা হয়। সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করতে হবে। ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত সেই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।
সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় থাকায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হওয়ায় এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, এটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং প্রচলিত অন্য যেকোনো আইনের ওপর এ অধ্যাদেশ প্রাধান্য পাবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।