বৃহঃস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

‘এক-এগারোর নেপথ্যে দুই সম্পাদক’:রিমান্ডে মামুন খালেদের দাবি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৭

সংগৃহীত

২০০৭ সালের এক-এগারো-কে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সেনা গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, যিনি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন।

তদন্ত সূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গত ২৫ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্যে মামুন খালেদ দাবি করেছেন, এক-এগারো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল সুশীল সমাজের একটি অংশ এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দুইটি প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদে একটি অনির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে এবং দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।

তিনি আরও দাবি করেন, সেনাবাহিনী শুরুতে এ পরিকল্পনার অংশ ছিল না, তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন চাপ ও পরিস্থিতির কারণে বাস্তবায়ন পর্যায়ে যুক্ত হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কার প্রেক্ষাপটে সশস্ত্র বাহিনী এতে সম্পৃক্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, এক-এগারোর আগে দেশের একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালায় এবং ‘বিরাজনীতিকরণ’ ধারণা ছড়িয়ে দেয়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতিবিদদের প্রতি আস্থা কমে যায়।

মামুন খালেদের দাবি, ক্ষমতা দখলের তিন দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ-এর সঙ্গে দুই সম্পাদক সেনাসদরে বৈঠক করেন এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ-এর পদত্যাগসংক্রান্ত ভাষণও একটি পত্রিকার সম্পাদক লিখে দিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামুন খালেদের দেওয়া এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top