বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

বুদ্ধিদীপ্ত কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৮

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বুদ্ধিদীপ্ত কৃষি কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি ১০ ধরনের সেবা পাবেন।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কৃষিজমি হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষি খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রয় সুবিধা, কৃষি প্রশিক্ষণ, আবহাওয়া ও বাজার তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই সংক্রান্ত পরামর্শসহ মোট ১০ ধরনের সেবা পাবেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।

কৃষি উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান—

প্রথমত, উচ্চ ফলনশীল বীজ, সুষম সার ব্যবহার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিযান্ত্রিকীকরণে ট্রাক্টর, হারভেস্টার ও রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্র কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা এবং ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ফসল অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা’ চালু করা হয়েছে। এতে মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুযায়ী ফসল নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করে পতিত জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৃতীয়ত, কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণে ধাননির্ভর কৃষি ব্যবস্থার পাশাপাশি ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুল চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

চতুর্থত, কৃষক সহায়তা কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, বীজ-সার বিতরণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে স্বল্প সুদে ঋণ এবং ফসল বীমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যার বড় অংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

পঞ্চমত, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক শীতল সংরক্ষণাগার ও গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। ফল ও সবজির জন্য ছোট আকারের সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রযুক্তি বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বিশেষ রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ষষ্ঠত, কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং জলবায়ু সহনশীল নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে।

সপ্তমত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কম পানি, কম সার ও কম কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে টেকসই কৃষি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেচ ব্যবস্থায় পানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top