বাস্তবতা জানাল বিশেষজ্ঞরা
রূপপুর থেকে কি পরমাণু বোমা তৈরি সম্ভব?
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮
দেশের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর কেন্দ্র ইতোমধ্যে জ্বালানি ইউরেনিয়াম ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এই ইউরেনিয়াম দিয়ে কি পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর হলো—না, রূপপুর কেন্দ্র থেকে কোনোভাবেই পরমাণু বোমা তৈরি করা সম্ভব নয়।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক অস্ত্র—উভয়ের মূল উপাদান ইউরেনিয়াম। প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে প্রধানত দুই ধরনের উপাদান থাকে—ইউরেনিয়াম-২৩৮ এবং ইউরেনিয়াম-২৩৫। এর মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই ইউরেনিয়াম-২৩৮, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে খুব বেশি কার্যকর নয়। কার্যকর অংশ ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক সাত শতাংশ।
এই ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর পরিমাণ বাড়ানোর প্রক্রিয়াকে বলা হয় সমৃদ্ধকরণ। বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে এর ঘনত্ব বাড়ানো হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম মাত্র তিন থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়। এই পর্যায়ে এটি নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপ উৎপাদন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ইউরেনিয়ামকে প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে হয়। এটি অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া, যা সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার বাইরে।
রূপপুর কেন্দ্রের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বিভাজনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন করা হয়। সেই তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে টারবাইন ঘোরায় এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে, পরমাণু বোমায় একই শক্তি এক মুহূর্তে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মুক্ত হয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়, যা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কঠোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়া থেকে সরবরাহকৃত প্রতিটি জ্বালানির হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, এই জ্বালানি কেবলমাত্র বেসামরিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে নির্মিত একটি বেসামরিক প্রকল্প। এখানে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, জ্বালানির মাত্রা এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির কারণে এটি কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।