বৃহঃস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২

হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদের বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২২ লাখ টাকা

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫০

সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত বাৎসরিক আয় ও ব্যয় বিবরণী (ফরম-২১) অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ করবর্ষে সালাহউদ্দিন আহমদের আনুমানিক বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। একই সময়ে তার বাৎসরিক ব্যয় উল্লেখ করা হয়েছে ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫৫৯ টাকা।

হলফনামার তথ্যানুযায়ী, কৃষিখাত থেকে তিনি ৬ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তির ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, নিজের মালিকানাধীন পেকুয়া লাইভস্টক ফিশারিজ ফার্ম থেকে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং ব্যাংক আমানত থেকে ১১ হাজার ৩২৬ টাকা আয় করেছেন। এছাড়া কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানি বাবদ তিনি আয় করেছেন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার আয়ের বড় অংশ এসেছে অন্যান্য উৎস থেকে—জমি বিক্রি বাবদ মূলধনী আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৮০ লাখ ২৭ হাজার ৩১১ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে দেখা যায়, সালাহউদ্দিন আহমদের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ৬৭ টাকা। তার স্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদের নগদ অর্থের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১২৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সালাহউদ্দিনের নামে জমা রয়েছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩৫ টাকা।

শেয়ার ও বিনিয়োগ খাতে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে সালাহউদ্দিন আহমদের বিনিয়োগের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নামে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

হলফনামা অনুযায়ী, সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যবহৃত একটি কার ও দুটি জিপের মূল্য প্রায় ৫৭ লাখ টাকা। তার স্ত্রীরও একটি কার ও একটি জিপ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা।

উপহার হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ বিভিন্ন সময়ে ১২ দশমিক ৩ তোলা স্বর্ণ পেয়েছেন, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। তার স্ত্রী হাসিনা আহমদের কাছে রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ তোলা স্বর্ণ, যার মূল্য ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ২৪ দশমিক ৩৬ একর কৃষিজমি, ৯ দশমিক ৪৩ একর অকৃষি জমি, পেকুয়ায় অবস্থিত তিনতলা নিজ বাসভবন (১২ হাজার ২০৮ বর্গফুট), কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে ছয়তলা ভবন (১৮ হাজার ১৫০ বর্গফুট) এবং ঢাকার গুলশানে একটি ফ্ল্যাট (৪ হাজার ১৯ বর্গফুট)।

হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেছেন, তার ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক মোট দায়ের পরিমাণ ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে মোট ৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছেন বলেও উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় ঐক্যজোট সরকারের আমলে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রী হাসিনা আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top