বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে তৎপর বিএনপি, তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪১
শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। তবে ধানের শীষের মনোনয়ন না পেয়ে শতাধিক আসনে দলীয় নেতারা এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছে দলটি। জোট ও দলীয় প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরাতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি।
দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে থাকা নেতাদের বোঝাতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এর অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন। বিশেষ করে যেসব আসন জোট শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে থাকা বিএনপি নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ বা জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে সরকার গঠন হলে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস এবং বহিষ্কৃত নেতাদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ইঙ্গিতও দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা কয়েকজন নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। দলটি আশা করছে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারির আগেই সংকটের সমাধান হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, তাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বোঝানো হচ্ছে। ২০ জানুয়ারির মধ্যে কেউ সরে না দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, বিএনপি শরিকদের সঙ্গে ১৭টি আসনে সমঝোতা করেছে। এসব আসনের কয়েকটিতে এখনো বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা থাকায় জোট নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোয় ‘কোনো ব্যানারেই’ বিএনপির প্রার্থী থাকা যাবে না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বিএনপি; জোটের ঐক্য অটুট রাখতে এবং ভুল বার্তা ঠেকাতে অঞ্চলভিত্তিক জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য।
এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল খালেক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকায় বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানান।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ ও জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে থাকা অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও শিগগির ঢাকায় ডেকে কথা বলবেন তারেক রহমান। বিএনপির লক্ষ্য—দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।