ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২৬
বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের প্রাক্তন মন্ত্রীরা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তারা মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন কখনোই বিশ্বাসযোগ্য, অবাধ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকা ও ব্রিটেনে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থকরা।
হাসান মাহমুদ অভিযোগ করেন, ইউনুস সরকারের অধীনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। তিনি হিন্দু যুবক ডিপু চন্দ্র দাসের লিঞ্চিং ও হিন্দু মন্দির, বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের অক্ষমতা এবং অসহিষ্ণুতার প্রকাশ ঘটেছে।
মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হলেও জাতিসংঘের মানবাধিকার রিপোর্ট একপাক্ষিক। সেই রিপোর্টে আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ইউনুস সরকার এই ভিত্তিতে আওয়ামী লীগকে দমন করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
প্রাক্তন নেতারা জানান, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচন যদি আওয়ামী লীগ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়, তা ‘করোনেশন’ হবে, নির্বাচন নয়। এতে লক্ষ লক্ষ ভোটার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা জাতিসংঘের সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
এই সংবাদ সম্মেলন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনা বর্তমানে দিল্লিতে নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন এবং ভারত তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, ইউনুস সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উত্তেজিত করেছে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও অ্যান্টি-ইন্ডিয়া মন্তব্যের কারণে।
সুত্র: কলকাতা ২৪/৭
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।